আমেরিকা , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি ঘাটতিতে পেট্রল পাম্প বন্ধের শঙ্কা ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে  ট্রান্সফার শিক্ষার্থীদের  জন্য দুই বছর ফ্রি টিউশন ডেট্রয়েটে ‘মার্শ দ্যু নেইন রুজ’ প্যারেড কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের ধাক্কায় বাস দুমড়ে-মুচড়ে, ১২ জন নিহত একজন ভাড়াটে খুনি এখন দণ্ডপ্রাপ্ত ভাড়াটে মিথ্যাবাদী মিশিগানে সৌর প্রকল্পে বিভক্ত কমিউনিটি : উন্নয়ন ও কৃষির দ্বন্দ্ব মিশিগানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদ জামাতে তিন প্রজন্মের আনন্দ স্টার্লিং হাইটসে কিশোর গুলিতে আহত, ১৮ বছরের যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্র্যান্ড রিভার করিডোরে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা, বদলে যাবে দুই শহরের চেহারা ওয়ারেনে শ্রেণিকক্ষে অশ্লীল আচরণ : চার্টার স্কুলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে মিশিগানে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী যুক্তরাষ্ট্রে আজ ঈদ ডেট্রয়েটে নতুন আমুর বাঘিনী ‘দারিয়া’ আগমন, চিড়িয়াখানায় উচ্ছ্বাস  মিশিগানে হামের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা সাম্পটার টাউনশিপে প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণ : তরুণী নিহত, সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার ডেট্রয়েট আরএক্স কিডস : প্রথম মাসেই ১,০০০-এরও বেশি মায়ের হাতে ১ মিলিয়ন ডলার মানব পাচার রোধে মিশিগানে গোস্ট টিমের নতুন কৌশল ইউএম শিক্ষার্থীর মৃত্যু : ঠান্ডা ও অ্যালকোহলের প্রভাবে প্রাণহানি ক্যান্টন টাউনশিপে ট্রাক্টর-ট্রেলার ও পিকআপের সংঘর্ষে আগুন, আহত ৯ ফার্নডেলে কমিউটার ট্রেনের ধাক্কায় পথচারীর মৃত্যু
শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে উৎসবমুখর পিঠা উৎসব

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক পৌষ সংক্রান্তি : ড. দেবাশীষ মৃধা

  • আপলোড সময় : ১৭-০১-২০২৬ ১১:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক পৌষ সংক্রান্তি : ড. দেবাশীষ মৃধা
ওয়ারেন, ১৭ জানুয়ারি: শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা বলেছেন, পৌষ সংক্রান্তি আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি আমাদের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা, পরিচয় ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সংস্কৃতিই যুগ যুগ ধরে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, জীবনের পথ চলতে শিখিয়েছে এবং আগামীর আলোর দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, নীরব কিন্তু সতর্ক প্রহরীর মতো আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য মূল্যবোধকে রক্ষা করে চলেছে। সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমাদের যেমন আনন্দে ভরিয়ে রাখে, তেমনি কখনো পথভ্রষ্ট হতে দেয় না। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- আমরা কোথা থেকে এসেছি, কোথায় যাচ্ছি এবং কেন যাচ্ছি।
ড. দেবাশীষ মৃধা আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আজও সনাতনী সমাজ বিশ্বের নানা প্রান্তে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার আলোয় মুক্তির পথ দেখাচ্ছে। তিনি আজ শনিবার দুপুরে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শিব মন্দির টেম্পল অব জয় আয়োজিত পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

দুপুর ২টায় উৎসবমুখর পরিবেশে মন্দিরের সাংস্কৃতিক কো-অর্ডিনেটর সৌরভ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার, চিনু মৃধা,  বাচিক শিল্পী অনন্ত সাইফ, পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, রাখি রঞ্জন রায়, অমূল্য চৌধুরীসহ আরও অনেকে। এর আগে বিশেষ পূজা, নামসংকীর্তন ও হরির লুট অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হলে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ পবিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
পিঠা উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন সিটি থেকে আগত ভক্তরা নানা নাম ও বাহারি নকশার মুখরোচক পিঠা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শিত পিঠার মধ্যে ছিল ভাপা পিঠা, নারিকেল দুধ পুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, পাটি সাপটা, চিতই পিঠা, মালপোয়া, সন্দেশসহ নানান ধরনের সুস্বাদু ও নজরকাড়া পিঠা। উৎসবে অংশগ্রহণকারী গৃহিণীরা অর্ধশতাধিক রকমের বাহারি পিঠা প্রদর্শন করেন।
নানা রঙ, আকার ও স্বাদের পিঠার সম্ভার দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি নতুন নতুন পিঠার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা সংস্কৃতি চর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
পিঠা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে উৎসবের আনন্দে যোগ হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার ও হ্যাপি হাওলাদারের দ্বিতীয় কন্যা শ্রুতি হাওলাদারের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ভক্ত ও অতিথিদের করতালিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয়।

পরে পিঠা প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট বিচারকমণ্ডলী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচারক হিসেবে ছিলেন চিনু মৃধা, হ্যাপি হাওলাদার, রাখি রঞ্জন রায় এবং চিন্ময় আচার্য্য। বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নে পিঠার উপস্থাপনা, নান্দনিকতা ও স্বাদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একদিকে বিচারকরা পিঠার স্বাদ গ্রহণে ব্যস্ত, অন্যদিকে ভোজনরসিক দর্শনার্থীরা প্লেট হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে ফল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন। অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন দীর্ঘ হয়ে উঠছিল। এক পর্যায়ে বিচারকমণ্ডলী ঘোষণা দেন, তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে- এবার উপস্থিত সকলের পালা। এই ঘোষণার পর উৎসব প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।
বিচারকদের রায়ে পিঠা প্রতিযোগিতায় মোট ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন রত্নাদেবী, দ্বিতীয় হন কৃষ্ণা শুক্লা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন অন্যনা দাশ বন্নি। এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার স্পন্সর করেন চিনু মৃধা, রতন হাওলাদার,পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু,তপন শিকদার, রাজশ্রী শর্ম্মা, নীলিমা রায়, চিন্ময় আচার্য্য,  রাহুল দাশ, সৌরভ সরকার এবং গকুল তালুকদার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ