আমেরিকা , মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পার্টি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে স্টার্লিং হাইটস ভাড়ার নিয়ম পুনর্বিবেচনা করছে ওয়ারেনে স্বামী হত্যার অভিযোগে নারী অভিযুক্ত, আদালতে অভিযোগ গঠন আয়ে অগ্রগতি কিছু শহরে, তবে রাজ্যজুড়ে পিছিয়ে মিশিগান ডেটা সেন্টার অনুমোদনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে স্টার্লিং হাইটস প্লট দুর্নীতি : হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা-ববির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড একুশের গানেই শুরু হলো ভাষার মাস ষড়যন্ত্র করে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে ডেট্রয়েটে বাড়ির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা মেয়র শেফিল্ডের ক্লিনটন টাউনশিপে পারিবারিক বিবাদে গুলিতে এক নারী নিহত যারা গুপ্ত ছিল, তারাই আজ ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বলছে : ডা: শফিকুর রহমান ‘দেখামাত্র বলবেন—গুপ্ত তোমরা’ : সিরাজগঞ্জে তারেক রহমান নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় মাঠে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি “কোনো কাজ নয়, কোনো স্কুল নয়”: আইসিই-এর বিরুদ্ধে ডেট্রয়েট উত্তাল বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা সতর্কতা আইসিই অভিযানের প্রভাবে ব্যাহত ডেট্রয়েটের শিক্ষা ব্যবস্থা : সুপারিনটেনডেন্ট মিশিগান রাজ্যে শিক্ষাদানকালীন সময় সেলফোন নিষিদ্ধের পথে জরুরি পরিস্থিতির পর মেট্রো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড স্টপ প্রত্যাহার জামায়াত আমিরের সঙ্গে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট : কেন্দ্র ও ভোটকক্ষের তালিকা প্রকাশ শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহত
শিব মন্দির টেম্পল অব জয়ে উৎসবমুখর পিঠা উৎসব

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক পৌষ সংক্রান্তি : ড. দেবাশীষ মৃধা

  • আপলোড সময় : ১৭-০১-২০২৬ ১১:৩৭:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০১-২০২৬ ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক পৌষ সংক্রান্তি : ড. দেবাশীষ মৃধা
ওয়ারেন, ১৭ জানুয়ারি: শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও দার্শনিক ড. দেবাশীষ মৃধা বলেছেন, পৌষ সংক্রান্তি আমাদের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি আমাদের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা, পরিচয় ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সংস্কৃতিই যুগ যুগ ধরে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, জীবনের পথ চলতে শিখিয়েছে এবং আগামীর আলোর দিকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা জুগিয়েছে।
তিনি বলেন, নীরব কিন্তু সতর্ক প্রহরীর মতো আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য মূল্যবোধকে রক্ষা করে চলেছে। সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আমাদের যেমন আনন্দে ভরিয়ে রাখে, তেমনি কখনো পথভ্রষ্ট হতে দেয় না। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- আমরা কোথা থেকে এসেছি, কোথায় যাচ্ছি এবং কেন যাচ্ছি।
ড. দেবাশীষ মৃধা আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতি মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বমানবতার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আজও সনাতনী সমাজ বিশ্বের নানা প্রান্তে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার আলোয় মুক্তির পথ দেখাচ্ছে। তিনি আজ শনিবার দুপুরে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে শিব মন্দির টেম্পল অব জয় আয়োজিত পিঠা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

দুপুর ২টায় উৎসবমুখর পরিবেশে মন্দিরের সাংস্কৃতিক কো-অর্ডিনেটর সৌরভ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার, চিনু মৃধা,  বাচিক শিল্পী অনন্ত সাইফ, পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, রাখি রঞ্জন রায়, অমূল্য চৌধুরীসহ আরও অনেকে। এর আগে বিশেষ পূজা, নামসংকীর্তন ও হরির লুট অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হলে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ পবিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
পিঠা উৎসবে রাজ্যের বিভিন্ন সিটি থেকে আগত ভক্তরা নানা নাম ও বাহারি নকশার মুখরোচক পিঠা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। প্রদর্শিত পিঠার মধ্যে ছিল ভাপা পিঠা, নারিকেল দুধ পুলি, গোলাপ ফুল পিঠা, পাটি সাপটা, চিতই পিঠা, মালপোয়া, সন্দেশসহ নানান ধরনের সুস্বাদু ও নজরকাড়া পিঠা। উৎসবে অংশগ্রহণকারী গৃহিণীরা অর্ধশতাধিক রকমের বাহারি পিঠা প্রদর্শন করেন।
নানা রঙ, আকার ও স্বাদের পিঠার সম্ভার দেখে দর্শনার্থীরা মুগ্ধ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী পিঠার স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি নতুন নতুন পিঠার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়, যা সংস্কৃতি চর্চার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
পিঠা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে উৎসবের আনন্দে যোগ হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। মন্দিরের চিফ কো-অর্ডিনেটর রতন হাওলাদার ও হ্যাপি হাওলাদারের দ্বিতীয় কন্যা শ্রুতি হাওলাদারের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ভক্ত ও অতিথিদের করতালিতে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আরও আনন্দময় ও স্মরণীয়।

পরে পিঠা প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য চার সদস্যবিশিষ্ট বিচারকমণ্ডলী দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিচারক হিসেবে ছিলেন চিনু মৃধা, হ্যাপি হাওলাদার, রাখি রঞ্জন রায় এবং চিন্ময় আচার্য্য। বিচারকমণ্ডলীর মূল্যায়নে পিঠার উপস্থাপনা, নান্দনিকতা ও স্বাদকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একদিকে বিচারকরা পিঠার স্বাদ গ্রহণে ব্যস্ত, অন্যদিকে ভোজনরসিক দর্শনার্থীরা প্লেট হাতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অধীর আগ্রহে ফল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন। অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন দীর্ঘ হয়ে উঠছিল। এক পর্যায়ে বিচারকমণ্ডলী ঘোষণা দেন, তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে- এবার উপস্থিত সকলের পালা। এই ঘোষণার পর উৎসব প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে।
বিচারকদের রায়ে পিঠা প্রতিযোগিতায় মোট ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন রত্নাদেবী, দ্বিতীয় হন কৃষ্ণা শুক্লা এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেন অন্যনা দাশ বন্নি। এই প্রতিযোগিতার পুরস্কার স্পন্সর করেন চিনু মৃধা, রতন হাওলাদার,পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু,তপন শিকদার, রাজশ্রী শর্ম্মা, নীলিমা রায়, চিন্ময় আচার্য্য,  রাহুল দাশ, সৌরভ সরকার এবং গকুল তালুকদার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ